conveylive.com

নতুন প্রজাতির মশা

সানাউলল্গাহ সাকিব তনু, জাবি

Syeda Tasneem Rumy
Syeda Tasneem Rumy
Apr 1, 2010
0 Comments | 2280 Views | 0 Hits
Rating: 0 Syeda Tasneem Rumy , নতুন প্রজাতির মশা Syeda Tasneem Rumy , নতুন প্রজাতির মশা Syeda Tasneem Rumy , নতুন প্রজাতির মশা Syeda Tasneem Rumy , নতুন প্রজাতির মশা Syeda Tasneem Rumy , নতুন প্রজাতির মশা
News and Events


নতুন শনাক্তকৃত মশাটির নাম কিউলেক্স মাইমেটিকাস (ঈঁষবী সরসবঃরপঁং). গত বছর সেপ্টেম্বরে বান্দরবন থেকে মশাটির শূককীট সংগ্রহ করা হয়। এ মশাটি জাপানে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দেখা যায়। জাপানে এটি জাপানিজ এনসেফালাইটিস নামক রোগের বাহক। তবে বাংলাদেশে এ মশাটি কী রোগ সৃষ্টি করে বা কোনো রোগের বাহক কি-না তা এখনও জানা যায়নি।


কবিরুল বাশার জানান, গত বছর সেপ্টেম্বরের শেষদিকে ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশার তথ্য সংগ্রহ করতে তিনি কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে বান্দরবন যান। তার সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার হাওলাদারসহ তিন শিক্ষার্থী পার্থ, সেলিম ও নিতা এবং জাপানের কানাজুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. টুনো নুবোকো। বান্দরবানের নতুন চড়ূইপাড়া নামক স্থানের একটি ধানক্ষেত থেকে বেশকিছু মশার শূককীট সংগ্রহ করে বিভাগের কীটতত্ত্ব ল্যাবে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় শূককীটগুলো লালন-পালন করা হয়। চারটি ধাপ শেষে শূককীটগুলো থেকে পাঁচ-ছয়দিন পর পূর্ণবয়স্ক মশা পাওয়া যায়। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মশার মধ্যে অপরিচিত একটি প্রজাতির মশাও দেখতে পান কবিরুল বাশার। পরে নভেম্বরে মস্কুইটো ইকোলজি ল্যাবে জেনেটিক অ্যানালাইসিসে এটিকে কিউলেক্স মাইমেটিকাস বলে শনাক্ত করেন তিনি। এ কাজে তিনি তার পিএইচডি সুপারভাইজার ড. টুনো নুবোকোর সাহায্য নেন। তিনি আরও জানান, মশাটি দেখতে অনেকটা কিউলেক্স মাইমোলাস (ঈঁষবী সরসঁষঁং) প্রজাতির মতো।


বাংলাদেশে মশা গবেষণার পুরোধা ইনস্টিটিউট অব অ্যাপিডেমিক ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহম্মেদ ২৩ বছর আগে দেশে মোট ১১৩ প্রজাতির মশা শনাক্ত করেন। নতুন এ প্রজাতিটি তার শনাক্তকৃত প্রজাতিগুলোর মধ্যে নেই। এ প্রজাতির মশা মাঝারি আকারের। এদের ডানার মধ্যকার শিরা পড়ংঃধ (৪), ংঁনপড়ংঃধ (৫) এবং ধহধষ াবরহ (১০) এ সাদা দাগ আছে। এদের শূককীট সাধারণত জুন-নভেম্বর মাসে পাওয়া যায় এবং চতুর্থ দশার শূককীট থেকে পূর্ণবয়স্ক মশা হতে সময় লাগে চার থেকে ছয়দিন।


জাপানে এটি জাপানিজ অ্যানকেফালাইটিস রোগের বাহক। কিন্তু বাংলাদেশে এর ভূমিকা সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। পাহাড়ি অঞ্চলে মশাটি বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এ প্রজাতি শনাক্ত করা ছাড়াও কবিরুল বাশার তার গবেষণায় দেশে কিউলেক্স ভিষ্ণুই নামে পরিচিত মশাকে তিনটি ভিন্ন প্রজাতি হিসেবে প্রমাণ করেছেন। বাংলাদেশে এতদিন ধরে ভিন্ন ভিন্ন এ তিনটি প্রজাতির মশাকে এক প্রজাতি কিউলেক্স ভিষ্ণুই (ঈঁষবী ারংযহঁর) হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।
এ বছর জানুয়ারিতে কানাজুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করা অনেক প্রজাতির মশার স্যাম্পলের ডিএনএ অ্যানালাইসিস করেন কবিরুল বাশার।

স্যাম্পলগুলো ঢাকার সাভার এবং সিলেটের শ্রীমঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেখানে স্যাম্পলগুলোর পিসিআর (পলিমেরাস চেইন রিঅ্যাকশন) করে অবাক করা তথ্য পান বাশার। রিপোর্টে দেখা যায়, বাংলাদেশে কিউলেক্স ভিষ্ণুই নামে পরিচিত মশার সবই আসলে এ প্রজাতির নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী কিউলেক্স ভিষ্ণুইর স্যাম্পলের বেশিরভাগই কিউলেক্স ট্রাইটেনিওরাইঙ্কাস (ঈঁষবী ঃৎরঃধবহরড়ৎুহপযঁং) প্রজাতির মশা। এছাড়া কিছু কিউলেক্স সিউডোভিষ্ণুই (ঈঁষবী ঢ়ংবঁফড়ারংযহঁর) প্রজাতির মশা। স্যাম্পলগুলোর মধ্যে কয়েকটি মাত্র কিউলেক্স ভিষ্ণুই প্রজাতির মশা। দেশে এ তিন প্রজাতিকেই ভুলবশত এক প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।


প্রায় অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণেই ভিন্ন প্রজাতির মশা তিনটি এতদিন দেশে কিউলেক্স ভিষ্ণুই নামেই পরিচিত ছিল। কিউলেক্স ভিষ্ণুই সাধারণত মাঝারি আকারের মশা। কালো শুঁড়ের মাঝখানে বড় সাদা আঁশের বৃত্ত দেখে এদের শনাক্ত করা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশেই এই মশা দেখা যায়। আগে এই মশার নাম ছিল কিউলেক্স অ্যানালাস। ডোবা, পুকুর, নিচু জলাভূমি, খাল প্রভৃতি জলাশয়ে এদের প্রজনন হয়ে থাকে। ঘরের বাইরে-ভেতরে সব জায়গায় এদের দেখা মেলে। টাঙ্গাইলের মধুপুরে এই মশা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

Author's note: News taken from Shomokal news paper.
Keywords: নতুন প্রজাতির মশা, new type of mosquito, সানাউলল্গাহ সাকিব তনু, জাবি , jahangirnagar university, sanaullah sakib tonu,



Please Signup to comment on this article